
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :ঢাকা-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জামায়াত। তবে বিএনপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর স্ট্যান্ড এলাকায় মাগরিবের নামাজের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর গণসংযোগ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে মিটফোর্ড স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজনকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঢাকা-৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, গণসংযোগ চলাকালে পেছন থেকে বিএনপির একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১০ দলীয় জোটের শরিক দল এনসিপির দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হৃদয় গুরুতর আহত হন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে আরও দুইজন আহত হন। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা সামিউল্লার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে আব্দুল্লাহপুর করেরগাঁও এলাকায় জামায়াতের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হানিফসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার কে বলেন, বিএনপি হামলা বা সংঘাতে বিশ্বাসী নয়। দলটি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহপুরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে কেউ যদি বাধা সৃষ্টি করে বা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, তার দায় বিএনপির ওপর দেওয়া উচিত নয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়েছেন। সেখানে গণসংযোগ চলাকালে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল। কে বা কারা হামলা করেছে, তা নিশ্চিত না হয়ে বিএনপিকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তিনি দাবি করেন, আজ সারা দিন জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় নির্বিঘ্নে গণসংযোগ করেছে এবং কোথাও বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার ঘটনা ঘটেনি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।