
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। রোববার বিকেলে তার জানাজায় অংশ নিয়ে বিএনপির নেতারা এই দাবি জানান।
রোববার বিকেল ৫টার দিকে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাসান মোল্লার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি, সাবেক মন্ত্রী ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ঢাকা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী।
জানাজা শেষে বক্তব্যে আমানউল্লাহ আমান অভিযোগ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও নির্বাচন বানচালের অংশ হিসেবেই হাসান মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। ভোটের মাঠ অশান্ত করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করাই এসব ঘটনার উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে জনগণকে রুখে রাখা যাবে না।
হাসান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
নিহত হাসান মোল্লার ছেলে বাধন মোল্লা বলেন, তার বাবার কোনো ব্যক্তিগত শত্রু ছিল না। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।