
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা ঢাকা :নতুন বছরের শুরুতেই আবারও ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ এলো জ্বালানি খাতে।
আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা।
গত ২ ডিসেম্বর সবশেষ এলপিজির দাম সমন্বয় করেছিল বিইআরসি। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি তাদের মাসিক ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই দিনে অটোগ্যাসের দামও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিইআরসি। জানুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে মূসকসহ ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে অটোগ্যাসের দাম ছিল প্রতি লিটার ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা।
গত ২ ডিসেম্বর অটোগ্যাসের দামও সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছিল ১ টাকা ৭৪ পয়সা।
বিইআরসি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা, আমদানি ব্যয় এবং মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়।
তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘন ঘন মূল্যসমন্বয়ের কারণে তাদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে অটোগ্যাসের দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়বে গণপরিবহনের ভাড়া ও সামগ্রিক দ্রব্যমূল্যের ওপর।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করা হলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ, তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।