
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার রায়গ্রাম এলাকায় ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো রেড রুবি জাতের টমেটো নিয়ে কৃষক-কেন্দ্রিক মাঠ দিবস। স্থানীয় চাষিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার (আরএসএম), খুলনা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোঃ আজাহারুল ইসলাম আরিফ, মনিটরিং অফিসার; বিপ্লব কুমার মন্ডল, টেরিটরি সেলস অফিসার (চিতলমারী, বাগেরহাট) এবং ব্র্যান্ড প্রমোটার প্রিন্স হালদার।
*উৎপাদন প্রযুক্তি ও বাজার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা*
আরএসএম মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান কৃষকদের উদ্দেশে রেড রুবি টমেটো জাতের বৈশিষ্ট্য, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, রোগব্যাধি ব্যবস্থাপনা এবং বাজার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, আগাম জাত হওয়ায় বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়া যায় এবং ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগে সহনশীল হওয়ায় এ জাতটি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
চাষিতে সন্তোষজনক ফলন, বাড়ছে আগ্রহ
মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া স্থানীয় চাষি প্রকাশ রায় জানান, তিনি রেড রুবি টমেটো চাষ করে উল্লেখযোগ্য লাভবান হয়েছেন। তার ভাষায়,
“২৫ হাজার টাকা খরচ করে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকা পেয়েছি। আরও ৭০–৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, আগাম জাতের টমেটো হওয়ায় গাছে থোকায় থোকায় ফল আসে এবং বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায়। তার সফলতা দেখে এলাকার আরও অনেক চাষি আগামী মৌসুমে রেড রুবি টমেটো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
*কৃষকদের মতামত:* উৎপাদন ও গুণগত মানে প্রশংসা
কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে রেড রুবি টমেটোর যেসব সুবিধা উল্লেখ করেন—
বাম্পার ফলন
মৌসুমের শুরুতে বাজার ধরায় বাড়তি লাভ
ভাইরাস—সহ বিভিন্ন রোগে সহনশীলতা
ফল বড়, রঙ উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়
কম ফাঁপা ও ঘন শাঁস
পরিবহন ও সংরক্ষণে সুবিধাজনক
পাইকারি–খুচরা দুই বাজারেই চাহিদা বেশি
*মাঠ দিবসের বিভিন্ন কার্যক্রম*
অনুষ্ঠানে কৃষকদের নিয়ে আলোচনা সভা, প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন, ক্ষেত থেকে টাটকা টমেটো সংগ্রহ ও মান যাচাই এবং অংশগ্রহণকারীদের দলীয় ছবি তোলা হয়।
*সারসংক্ষেপ*
রায়গ্রামে অনুষ্ঠিত এই মাঠ দিবস রেড রুবি টমেটো নিয়ে কৃষকদের বাস্তব ধারণা ও আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগাম জাত, উচ্চ ফলন ও বাজার সুবিধার কারণে আগামী মৌসুমে এ জাতের চাষ চিতলমারী, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ এলাকায় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আয়োজকদের ধারণা।