
অরুন কুমার সরকার(বাগেরহাট)প্রতিনিধি: চিতলমারী উপজেলার কলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানকালে শিশুরা হঠাৎ খিঁচুনি উঠে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ওই বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময় শ্রেণিকক্ষেই চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো সালিমা আক্তার, ছাব্বির রহমান, মুন্নি আক্তার, ফাতেমা আক্তার ও আয়শা আক্তার। এদের মধ্যে শিক্ষার্থী সালিমা ও ছাব্বির ১৬ নভেম্বর একইভাবে অসুস্থ হলে শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে শিক্ষক ও অভিভাবকগণ প্রথম দিন দুই শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেয়। কিন্তু পরদিন সেই দুই শিক্ষার্থী সহ আরো তিনজন অসুস্থ হয়। তাই অভিভাবকেরা এই রোগকে ‘‘জীন-পরীর আছর’’ বলে আখ্যা দিয়ে স্থানীয় কবিরাজ কিংবা হুজুরের ঝাড়ফুকের প্রতি বেশি ভরসা রাখছেন।
সরেজমিনে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের বুকে ব্যথা ওঠে এবং নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাদের কাঁধ ও মুখমণ্ডল বাঁকা হয়ে যায়।
সালিমার মা হামিদা বেগম জানান, রবিবার তাঁর মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক ফিলমেট ট্যাবলেট দিয়ে সালিমাকে বাড়িতে বিশ্রাম নিতে বলেন।
সোমবার সালিমা আবার অসুস্থ হয়।
৫ম শ্রেণির অসুস্থ শিক্ষার্থী সালিমার মা হামিদা বেগম জানান, গত রবিবার তার মেয়েকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানে দুই ধরণের ট্যাবলেট দিয়ে সালিমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। সোমবার সালিমা স্কুলে গিয়ে একই রোগে পুনরায় আক্রান্ত হয়। এই রোগ সারানো কোন ডাক্তারের কাজ নয়। এটা জীন-পরীর আশ্রয়। তাই কবিরাজ বা হুজুরই একমাত্র ভরসা।তবে শিক্ষার্থী সালিমার মা এবং চাচির (সালমা বেগম) কাছে সালিমা বলেছে, রবিবার স্কুলের টয়লেটের পাশে বসে কেউ একজন তাকে কিছু খাবার দেয়। সে সেই খাবার খাওয়ার পরক্ষণেই চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে আসে। এরপর সে আর কিছু জানেনা।
সালিমার চাচি সালমা বেগম (হুমায়ুন খলিফার স্ত্রী ), শিক্ষার্থীদের রক্ষার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসকদের সাহায্য চান।
চিতলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, রবিবার দুজন অসুস্থ হলে শিক্ষকরা তাদের হাসপাতালে নেন। সোমবার আগের সেই দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন অসুস্থ হয়।
এ সব বিষয় জানতে চাইলে বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান আমি নিজে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।