রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কেরানীগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান– আমান উল্লাহ আমান উত্তরা পূর্বে কোরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫০ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে আব্দুস সালাম সরকারকে দেখতে চায় এলাকাবাসী নাঙ্গলকোট কমিউনিটি ক্লাবের আত্মপ্রকাশে ইফতার মাহফিল ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত উত্তরায় শিল্পী সংস্থার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট ও ক্রু উদ্ধারে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উদ্যোগে উত্তরা এলাকায় মশক নিধন কর্মসূচির উদ্বোধন আমার প্রতিটি ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো— এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এমপি মহান শহীদ দিবসে উত্তরা পশ্চিম থানায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হাজী সাইদ ল্যাবরেটরি স্কুলে দুই দিনব্যাপী একুশের বইমেলা ও সুন্দর হস্ত লিখন প্রতিযোগিতা

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় তুঙ্গে: ছয় হেভিওয়েট প্রার্থীতে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন

উত্তরা প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-১৮ আসনটি বাংলাদেশের ৩০০টি জাতীয় সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৯১তম। রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি মোট ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। এসব আসনের কিছু জায়গায় চলছে পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আবেদন।

তার মধ্যেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ঢাকা-১৮ আসন। এখানে এমপি পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের জনপ্রিয়তা ও তৎপরতা ইতোমধ্যেই ভোটারদের নজর কেড়েছে। ফলে কে পাবেন বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন— তা নিয়ে এলাকায় উৎসুক অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় এখন তুঙ্গে। এ আসনে প্রার্থী নিয়ে দলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। কে পাবেন কাঙ্ক্ষিত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক— তা ঘিরে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও ঢাকা-১৮ আসনটি ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আরও সক্রিয় হয়ে মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। উঠান বৈঠক, গণসংযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক কর্মকাণ্ড— সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে তাদের তৎপরতা।

তবে এখনো সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত না থাকায় দোলাচলে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। প্রার্থী নির্দিষ্ট না হওয়ায় তারা যার যার মতো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা-১৮ আসনে হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী হাজী মোস্তফা জামান

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় অন্যতম নাম ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান। আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা শুরু করেছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এলাকার কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দাবি করছেন, ঢাকা-১৮ আসনে হাজী মো. মোস্তফা জামানই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। তাদের ভাষায়, “ঢাকা-১৮ আসনে হাজী মোস্তফা জামানের বিকল্প নেই। দল অবশ্যই তাকে মনোনয়ন দেবে, ইনশাআল্লাহ।”

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার সম্ভাব্য মনোনয়নকে ঘিরে জোর আলোচনা চলছে।

মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন

ঢাকা-১৮ আসনে বরাবরের মতো এবারও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ২০২০ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার কারণে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়েও তিনি অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতাকর্মীরা মনে করেন, ঢাকা-১৮ আসনে এমন একজন প্রার্থী প্রয়োজন যিনি সংগঠিত, অভিজ্ঞ এবং দলের প্রতি নিবেদিত। তাদের দাবি— “এই আসনে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের মতো যোগ্য প্রার্থী আর কেউ নেই।”

মনোনয়ন ঘোষণার আগেই তাকে ঘিরে এলাকায় দারুণ উৎসাহ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

মনোনয়ন দৌড়ে মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনও আলোচনায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনও ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। এর আগে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের দাবি, ‘রাতের ভোটের’ কারণে তিনি সেই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।

বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সেগুন। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ইতোমধ্যে একটি জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত।

দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও কর্মঠ নেতৃত্বের কারণে মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন মনোনয়নের যোগ্য প্রার্থী। তাদের ভাষায়, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আরও উদ্দীপনা নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

মনোনয়ন দৌড়ে শক্ত অবস্থানে এম কফিল উদ্দিন আহমেদ

দীর্ঘ চার দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী এম কফিল উদ্দিন আহমেদও ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ কর্মসূচি প্রচারসহ নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তৃণমূলে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।

দলের প্রতি দীর্ঘ দিনের ত্যাগ, নানা হামলা–মামলার মধ্যে থেকেও সংগঠনের পাশে থাকা— এসব কারণে নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন বিশ্বস্ত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি—
“এম কফিল উদ্দিন দীর্ঘদিন দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। ঢাকা-১৮ আসনে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত।”

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মনোনয়ন সম্ভাবনাকে ঘিরেও জোর আলোচনা চলছে।

মনোনয়ন আলোচনায় আফাজ উদ্দিন আফাজ

দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃত্ব অতিক্রম করে বিএনপির মূলধারায় উঠে এসেছেন আফাজ উদ্দিন আফাজ। ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতা ঘোষণা দিয়েছেন— “ঢাকা-১৮ কে একটি মডেল আসন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

এর আগে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার অভিযোগ, ভোটকারচুপির কারণে তিনি পরাজিত হন। তবুও তৃণমূলে ‘জনতার কাউন্সিলর’ হিসেবে তার জনপ্রিয়তা এখনো বজায় রয়েছে।

স্থানীয় এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় মনোনয়ন দৌড়েও তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন।

মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় হেলাল তালুকদার

দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদারও ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন দৌড়ে অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি’ প্রচারে তিনি প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা পরিচালনা করছেন। এসব উঠান বৈঠক অনেক সময় জনসমাগমে পরিণত হওয়ায় তার জনপ্রিয়তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

এলাকার সাধারণ মানুষদের দাবি, হেলাল তালুকদারের জনপ্রিয়তা বেশি স্পষ্ট। তারা মনে করছেন, বিএনপি থেকে ঢাকা-১৮ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূলে তা ইতিবাচক সাড়া ফেলবে। ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় গরীবের বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

এক সাক্ষাৎকারে হেলাল তালুকদার বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে দক্ষিণখানের অলিতে-গলিতে উঠান বৈঠক করছি। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমি তার পক্ষেই কাজ করব। তৃণমূলের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি আশাবাদী। তবে এমপি নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার নেই।”

তবে তার অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, দক্ষিণখান ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক সাড়া তাকে এ আসনের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আলোচনায় থাকা এই ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর পাশাপাশি জোটভুক্ত দলগুলোর আরও কয়েকজন নেতার নামও বিবেচনায় রয়েছে। আগামী মাসে ঢাকা-১৮ আসনের চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

“এলাকাবাসী এবারের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, যেসব প্রার্থী নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে, তাদের দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত নয়।”

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102