মেহেদী হাসান, শৈলকুপা প্রতিনিধি: জাতীয় জাগরণের কবি গোলাম মোস্তফার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী এবারই প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে পালিত হলো। কবি গোলাম মোস্তফা একাডেমির সহযোগিতায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন এ আয়োজন বাস্তবায়ন করে।
১৪ নভেম্বর শুক্রবার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে কবির বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও রাজউক সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম সিরাজুস সালেহীনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কবি গোলাম মোস্তফা একাডেমির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ব্যাংকার্স ফোরাম শৈলকুপা উপজেলা সভাপতি মহিবুল কাদির ফরহাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও একাডেমির উপদেষ্টা রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গুণীজনরা।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে মনোহরপুর গ্রামে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ১৯৯৭ সালে কবির জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের পর দীর্ঘ ২৮ বছর এমন আয়োজন হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মাঝে ছিল বিশেষ উচ্ছ্বাস ও আগ্রহ।
প্রধান অতিথি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “দেশের একজন বড় মাপের কবিকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।” তিনি জানান, আগামী বছর থেকে সরকারিভাবে তিন দিনব্যাপী ‘কবি গোলাম মোস্তফা মেলা’ আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইউবি’র ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি গোলাম মোস্তফার নামে একটি হল বা একাডেমিক ভবন নামকরণের আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রয়াত মোশাররফ হোসেন মিয়া এবং দেশবরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।