অরুণ কুমার সরকার চিতলমারী (বাগেরহাট)প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার স্বামী পরিত্যক্তা দুই সন্তানের জননী সেলিনা আক্তার একটি বসতঘরের জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ির পর তিনি বাপের বাড়িতে এসে উঠে ছিলেন। বাপের পরিত্যক্ত ভিটের এক কোনায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সেই ঘর এখন আর বসবাসের উপযোগী নেই। ঘরটি জরাজীর্ণ ভেঙ্গে চুরে একাকার হয়ে গেছে।ছোট ছোট বাচ্চা দুটিকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছেন। তাকে জরুরিভাবে একটি সরকারী বসতঘর প্রদানে জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে জানা যায়, চিতলমারী উপজেলা কুরালতলা গ্রামে ছালাম শেখে মেয়ে সেলিনা আক্তারে(৩৭) সাথে রুপসা উপজেলা দুর্জনিমহল গ্রামের রুহুল শেখের ছেলে মাহাবুব শেখের সাথে বিবাহ হয়। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতে তাদের ভিতর ছাড়াছাড়ি হয়ে যাই। তার প্রথম সন্তান আপন শেখ (১২) দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ার পর অর্থের অভাবে এখন স্কুলে যাওয়া বন্ধ। সে সুপারি পাড়ে এবং শাপলা কুড়িয়ে বিক্রি করে। ছোট সন্তান আয়েশা ইসলাম জোহরা (০২) সব সময় মায়ের সঙ্গে থাকে। সেলিনা আক্তার দুমুঠো ভাতের অভাবে এই সন্তানকে কোলে নিয়ে এবাড়ি ওবাড়ি কাজ করেন। তবু ঠিক মত একবেলা আহার জোটে না। তবুও রুগ্ন শরীরে কাতরাতে কাতরাতে ইউএনও অফিসের দিনের পর দিন ছোটেন একটি ঘরের জন্য। তার দুরবস্থার কথা শুনে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার অমানবিক জীবনের চিত্র দেখতে পাই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ কয়েক ব্যক্তি জানান, সেলিনা আক্তারের মাথা ঠিক নেই-সে মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে কি কোন মানসিক সরকারি চিকিৎসক দেখানো হয়েছে? কিসের ভিত্তিতে তাকে মানসিক রোগী বলা হচ্ছে? এই প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি তারা। এমনকি দিনের পর দিন সেলিনার শিশুদের নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করলেও নিন্দুকেরা কেউ তাকে মানবিক সাহায্য করেনি বলে জানা যায়।
এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিবেশি আজগার আলী মোল্লার স্ত্রী দোলেনা বেগম বলেন, সেলিনা ভাঙ্গাচুরা ঘরে সারা বছর কষ্ট করেন।জরুরিভাবে ওর একটি বসতঘর দরকার।
এই বিষয় হিজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শাহীন বলেন, তিন-চার বছর আগে সেলিনা আক্তারের বসতঘরের জন্য একবান টিন দেয়া হয়েছিল। তার জন্য একটা সরকারী বসতঘরের ব্যবস্থা হলে ভালো হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, সরকারি ভাবে যতদূর সাহায্য করা দরকার তা আমরা করবো।